ডিজিটাল সাতকানিয়া
প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার নানা উদ্ভাবন দেখতে দেখতে আরো একটি বছর শেষ হতে চলেছে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির অবিস্মরণীয় বিপ্লবের ফলে পৃথিবীর মানচিত্র এক হয়ে গেছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে অগ্রসর হওয়ার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও।
রূপকল্প ২০২১ আমাদের বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের জন্য অন্যতম রূপরেখা হয়ে ওঠেছে। সে লক্ষ্য অর্জনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারই ধারাবাহিকতায় মাঠ পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য উপজেলায় সহকারী প্রোগ্রামার এবং জেলা পর্যায়ে প্রোগ্রামার নিয়োগ দেয়া হয়েছে,যাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের সর্বাত্নক চেষ্টা চলছে।
ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫–এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন “ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত “ডিজিটাল বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠা করা ছিল আমাদের অঙ্গীকার। আমরা সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। এখন দেশের ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলায় ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে জনগণকে ২০০ রকমের সেবা দেওয়া হচ্ছে” । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর , সাতকানিয়া উপজেলা কর্তৃক শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব পরিদর্শন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের পরামর্শ প্রদান, প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণকে ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা প্রদান, জাতীয় তথ্য বাতায়ন নিয়ে উপজেলায় এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, ইনফো সরকার কর্তৃক উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কানেক্টিভিটি প্রদানে সহযোগিতা প্রদানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সাতকানিয়া উপজেলা। এই উপজেলার যেকোন সেবা এবং তথ্য সম্বন্ধে জানতে উপজেলার ওয়েব পোর্টালগুলো যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ই-ফাইলিং বাস্তবায়নে যাবতীয় ট্রেনিং এবং কার্যক্রম ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত যুগোপযোগী সিস্টেম চালুতে ভূমিকা রাখছে।
উপজেলায় এর মধ্যে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান আহরণ করে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছে। সাতকানিয়া কমিউনিটি ই-সেন্টার এবং লোকাল আইএসপি দের সহায়তায় সর্বত্র কানেক্টিভিটির কাজ চলমান। সাতকানিয়ার মানুষজন সর্বক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে। উপজেলা আইসিটি কমিটির সহায়তায় শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং সম্বন্ধে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারে ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নিত্যনতুন টেকনোলজি সম্পর্কে শিক্ষকদের ধারণা দেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাতকানিয়াকে দেশের অন্যতম ডিজিটাল উপজেলা তৈরির যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অন্যান্য উপজেলাকে সহায়তা করবে। আশা রাখছি ,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এর সদয় দৃষ্টি পেলে খুব শীঘ্রই দেশের অন্যতম ডিজিটাল উপজেলা হবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় উপজেলা সাতকানিয়া।
আনোয়ার হোসাইন
সহকারী প্রোগ্রামার,
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর,
সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
|
শিক্ষার্থীদের আইসিটি বিষয়ে উদ্ধুদ্ধকরণের জন্য দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন সহকারী প্রোগ্রামার, সাতকানিয়া উপজেলা।
|
সাতকানিয়া কমিউনিটি ই-সেন্টার এ যাবতীয় ডিজিটাল সেবা প্রদান করছেন উপজেলা উদ্যোক্তা। |
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। |
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস